সুবর্ণ-তরী

সুবর্ণ-তরী

নৌকার ভাঙা পাটাতনের বুক, ঘুণে ধরা কাঠ,
মিলিয়ে গেছে প্রবল জলস্রোত, এখন জনশূন্য ঘাট,
শুকিয়ে যাওয়া হাহাকারের নদী বুকে সবজেটে ঘাস,
ফেলে যাওয়া নাবিকের ভাঙা মাস্তুলে নীরবতার বাস।
বহুযুগ কেটে গেছে দরিয়ার গতিপথ বদলের..
নিশ্চল সময়ের প্রকাণ্ড স্তব্ধতা দাঁড় টানা মাদলের,
স্লেট রঙ আকাশের বিদ্রূপে হাসে ধু ধু প্রান্তর..
নৌকার লোহাকাঠ কংকালে মেশা নাবিকের অন্তর।

বয়ে চলা ক্লান্তিতে থেমে গেছে উত্তাল হাওয়া..
থেমে যাওয়া কোলাহলে পিনপতনের গান গাওয়া,
প্রহেলিকা সীমান্তে জীবনের দামোদর ডাকে বারোমাস,
ভুলে যাওয়া নাবিকের গানের আবছায়া স্বপ্নের চাষ।
ক্ষয় হয় দরিয়ার বিজয়ের একদার নির্ভীক হাল..
ক্ষয়িষ্ণু অন্তিমে তরীর জীর্ণতায় সুবর্ণ-কাল,
শত জনমের চেতনার অক্ষয়ে বেঁচে থাকে সূর্যের দীক্ষা,
এবং ক্রমাগত যুদ্ধের পরাজয় বিফলে মৃত্যু অপেক্ষা।

বিস্মৃতির ওপার থেকে ভেসে আসে দরিয়ার ডাক..
সহসাই বুকের গহবরে ডাকে প্রেতরূপ নাবিকের হাক,
ক্ষয়ে যাওয়া জোছনায় প্রতিদিনই ভাঙে চেতনার ঘর,
আর বাস্তব কষাঘাতে লাগামবদ্ধ আপন হয়ে যায় পর।

ঝাপসা

ঝাপসা

সে চেয়েছিল আকাশ ভাঙা রোদ,
সে চেয়েছিল উদাসী জোছনার গান,
সে পেয়েছিল মেঘলা আকাশ, অন্ধকারের বোধ,
পেয়েছিল এক যুদ্ধবাজের হার না মানা প্রান।
হয়তো চেয়েছিল এক টুকরো স্বপ্ন মাখা ঘর,
হয়তো কাশফুল মাঠ, রাখালিয়া সুর,
পেয়েছিল দুঃস্বপ্নের মেঘ তার পৃথিবী হয়েছিলো পর,
অর্ফিয়াসের কান্না বাঁশিতে শুভ্রতা বহুদূর।
চাওয়া পাওয়া ব্যবধানে নেমে আসা সন্ধ্যা,
বেলা শেষ অচেনায় সময়ের বন্ধ্যা..
হাতছানি নিয়ে যায় পথভুল সীমানায়,
কম্পাস ভ্রান্তিতে ঘাসে ছাওয়া জামানায়।
কখনো সে চেয়েছিল ভালোবাসা সিঁদুরে..
আঁচলের রোদ্দুর বিস্মৃতি অদূরে,
অথবা কোন মায়াবতী উঠোনের কোণ,
হয়তোবা, হয়তোবা কোন মন..
কখনো সে চেয়েছিল..

চন্দ্রিল

চন্দ্রিল

বাঁশের বাগানে আলোক উৎসবে..
নিশীথের অনুভবে..
মোহময় যাদুকরী পূর্ণিমা কল্পে..
আকাশের চন্দ্রিমা শর্বরী কন্যা,
হাতছানি দিয়ে ডাকে আলোকের বন্যা,
কাব্যিক স্নিগ্ধতা রূপকথা গল্পে।
চন্দ্রের ভরা যৌবন রাতে..
আর নিরালার খাঁতে..
জোছনার ছায়াতে হেলে পড়া বাঁশঝাড়,
মায়াময় অচেনায় পৃথিবীর নিরালায়,
রাত্রির পেয়ালায় ডাহুকের সুরেলায়..
এলোমেলো চন্দ্রিকা বাতাসের স্রোতধার।
জোছনার নিষ্প্রভ তারকায়..
ভাবনার ঝরোকায়..
ফেলে আসা অতীতের স্বপ্নের ঘর,
অভিমানে বিদীর্ণ দূরাগত ঝাপসা,
সময়ের অন্তিমে সঙ্গম লিপ্সা,
প্রসারিত হতাশার প্রেমে রাতভর,
প্রথাগত জীবনের সস্তার দর।

কুহেলী কুহক

কুহেলী কুহক

অতৃপ্তি যাতনায় আঁধারের বন্দিনী মরীচিকা অবয়ব,
সময়ের নির্জনে মায়ার অপরাজিতা প্রাণময় সুন্দর,
কান্নার আলোকে মুক্তির হাহাকারে কুহকের উৎসব,
আকাশের চাদরের প্রান্তে ক্ষয়ে যাওয়া একাদশী চন্দর।
দৃষ্টির বিভ্রমে কুহকিনী নিশীথের অজানা অনন্ত..
জন্মান্তরে ক্ষীণ জন্মের তৃষ্ণায় প্রণয়ের মন্তর,
প্রহেলিকা জমাটের আলোকিত অসীমে স্বপ্নেরা ক্লান্ত,
অভিমান তুহিনে ভালোবাসা উষ্ণতা হারিয়েছে গন্তর।

তারকার গভীরে হেঁয়ালির খেয়ালে সৃষ্টির স্পন্দন..
মৃত্যুর জোছনার ঠিকানায় মায়াজাল প্রলয়ের বন্দর,
নির্বাক আঁধারে প্রেতযোনি তৃষ্ণার পৃথিবীর বন্ধন,
বিমূর্ত এলোমেলো ভাবনার দুর্গম হিমগিরি কন্দর।
আঁধারের তন্দ্রায় জোনাকির ক্ষণজীবী আলোক প্রসাদ,
জীবনের সীমানায় ছায়াময় গহীনে ছায়াদের অন্তর,
পিপাসার অচেনায় ছায়াময় মানবীর প্রচণ্ড অবসাদ,
রাত্রির শরীরে বিষণ্ণ আলোকের কুহেলিকা প্রান্তর।