কথোপকথন ১৫

পত্র-১৫

— ফারহানা জিলানী এবং ঠোংগা কবি
.
তমাঃ-
তোমার ওষ্ঠ ছুঁয়েছে যখন..
আমার গ্রীবার তিল,
আকাশ ভেঙে বৃষ্টি তখন..
উন্মাদনায় ভিজেছি দুজন,
যুগল প্রেমের অন্ধ নেশায়..
হঠাৎ কেমন মিল!
চোখ ছাড়িয়ে চুলের ভাঁজে..
বেলী ফুলের মাতাল খোঁজে..
কে পারে আর তোমার মতো-
সাজাতে আকাশ নীল!
তোমায় নিয়েই স্বপ্ন দেখা-
রাত্রি দ্বিপ্রহর,
আলিঙ্গনে বাঁধা ছিলাম-
রাত পেরিয়ে ভোর…
.
তমঃ-
গ্রীবার তিলের মোহে কামনার অন্তে ..
হারানো নগরী ডাকে প্রণয়-সীমান্তে,
বেলির গন্ধ ভাঁজে মিলন-আহবান..
আগুন আল্পনা আঁকে তৃষ্ণার গান।
কামনার দীয়া জ্বলে পার্থিব আগুনে,
তোমার ওষ্ঠে, তোমারই ফাগুনে!
বৃষ্টির ধারাজলে বসন্ত স্নান,
সিক্ত বাঁধনে বাঁধা যুগলের গান।
কুন্তল আভরণে রঙধনু তনু..
নিশীথে আলিঙ্গনে প্রেম,
অনুরাগ রঙে মাখা রমণীয় অনু,
হৃদয়ের মন্থনে ফোটা মিলনের হেম!

তোমারই স্বপ্নে কাটে রাত্রি দ্বিপ্রহর..
উত্তাল জোছনায় বাঁধা আলিঙ্গনের ভোর।

কথোপকথন ১৪

পত্র-১৪

— ঠোংগা কবি এবং ফারহানা জিলানী
.
তমঃ-
সহসাই চেতনার গহীন অতলে
হারিয়ে ফেলা নীল চিঠি
জ্বেলে দিয়ে দৃষ্টির দিয়া
বেদনার সুহাসিনী দিঠি
মোমের আদলে গলে হিয়া…
যেন প্রণয়ের বেদনার ঠিকানা।
স্মৃতিতে প্রণয়িনী তুমি
শিশিরের সায়রেতে নামি,
নিঝুম সময় একাকী আমি…
আড়ালে প্রস্তর অন্তর্যামী,
কি ভাবে যেন রয়ে গেছো তুমি,
একাকী তুমি…
আর, তরঙ্গহীন আমি…
.
তমাঃ-
স্মৃতিতে ধুসর নীল খাম
বেদনার আস্তরনে তুলে হাহাকার,
তোমাকে দেখিতে চেয়ে দু নয়ন
বাঁধহীন ছুটেছে আষাঢ়।
তুমিহীন জোছনার রাত
মোমের আদলে গলে গেছে প্রণয়ের রথ,
একাকী শুকতারা হারিয়েছে পথ
প্রেমানলে পুড়ে ছাই
দুঃস্বপ্নের ভোর,
হতাশার চৌকাঠে অসংখ্য হোঁচট
তোমায় খুঁজে গেছে দিশেহারা চোখ,
বিস্তীর্ণ জলরাশি ছুঁয়েছে জোয়ার
আমি শুধু পথে চেয়ে…
তুমি বুঝি ফিরবে আবার…..

কথোপকথন ১৩

পত্র-১৩

— ফারহানা জিলানী এবং ঠোংগা কবি
.
তমাঃ-
তোমার চোখে মেঘ কেনো বলো?
যেনো অনেক কালের পুরনো কোনো বৃক্ষ…
পত্র,পুষ্পে,ফলে ভীষণ অগোছালো!
অথবা কোনো গভীর জলাশয়….
যার জল নিস্প্রভ, কাকের চোখের মতো কালো।
তুমি কি হারিয়েছ কিছু?
যেভাবে পথ ভুলে পথিক এলোমেলো হেঁটে যায়,
খু্ঁজে ফেরে ঠিকানা…
আজকাল তোমাকে তেমনই দেখি,
যেনো আমাদের কাছে আসতেই মানা?
বলো, কি দেইনি তোমায়?
প্রতিটা দিন তো রঙে রূপে তোমাকে নিয়েই সাজিয়েছি,
প্রতিটা রাত রুপালী তারায় যত্ন করে বুনেছি,
তবু কেনো তোমাকে দেখি এতোটা অচেনা?

.

তমঃ-
কেমন আছো?ভালো?
তোমার উষ্ণতা ছড়ানো আলো…
প্রণয় সিক্ত কাজল কালো,
তোমার উন্মত্ত প্রেমে এলোমেলো,
কেমন আছো?ভালো?
তোমার সুরে সুর কবিতার ঝাঁপি…
তোমার স্মৃতি বিজড়িত দিনলিপি,
ভুলে যাওয়া গান, হৃদয়ের শান-
আবেগ বিহীন প্রণয়ের মান,
যখন তখন স্মৃতির আগুন জ্বালো…
হয়তো এখন আমি ভালো নেই,
তোমাতে হারায় বিষাদের খেই,
হেলার বিকেল, উদাস দুপুর…
জোছনা পাঁজরে ক্লান্ত নূপুর,
আজ হতাশা সিক্ত খেলো…
কেমন আছো?ভালো?

কথোপকথন ১২

পত্র-১২

— ঠোংগা কবি এবং ফারহানা জিলানী
.
তমঃ-
হতাশার অন্ধকারে, আলোকিত চাঁদের নিচে…
পৃথিবীর হৃৎস্পন্দনে চলে যায় রাত…
এখনো কি ভাবো আমায়, মনে মনে ডাকো কাছে?
প্রণয়ের স্বপ্নে ভোলো জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত?
আমাতে এখনো ডাকে রংতুলি…
মাখি কবিতার রং তোমাতে…
এখনো কি গাও গানগুলি?
লেখা হয়েছিলো যা তোমায় ফেরাতে…
অথবা, সেই চিঠি? ভালোবাসার বানী?
আজ মহুয়ার বনে নিস্তব্ধতার হাতছানি…
অতীতের দীর্ঘশ্বাস মাখা, পাঁজরে লুকিয়ে রাখা…
শ্যাওলা গন্ধে, এখনো তোমাতেই বাঁচি…
প্রণয়ের আঁকাবাঁকা, জলের তুলিতে আঁকা…
আমার তুমিতে ভালো থেকো…
আমি ভালো আছি…
.
তমাঃ-
হতাশার অন্ধকারে, রাতের গহবরে…
যতবার ডুবে যায় চাঁদ,
ততোবার মনে মনে, দখিনা সমীরনে…
তোমার হাতেই রেখেছি এই হাত,
এখনো কবিতার রঙে, গানের গুঞ্জরনে…
ছেড়া চিঠির খামে…
তোমাকেই ভেবে ভেবে কেটে যায় রাত,
কোথায় সেই চিঠি?
ঝুকে পড়ে দেহ ঝাপসা হয়ে জ্যোতি…
হৃদয়ের আঁকুতি…
সেই চোখ, সেই মুখ, সেই তাকিয়ে দেখার সুখ…
সেখানেই বেচে থাকি, থাকি উন্মুখ,
যেখানে ছিলো গাঁথা প্রনয়ের বাস…
এখনো সেখানে বসন্ত হাসে…
তোমাতেই বারোমাস।