বাসন্তীর রঙ

বাসন্তীর রঙ

মধুমাখা দৃষ্টির মায়াজালে…মধু-রঙা চোখে..
প্রণয়ের ভীরু ঝলমলে রৌদ্রের সুরে..
এলোমেলো হাতছানি হৃদয়ের খোলা জানালার বুকে,
ভাবনারা রঙধনু হয়ে…ফেরারি হয়েছে বহুদূরে।
কাজলের অনুভবে মাতাল করা খোলা আকাশের ডাক,
মেহগনি আহবানে চোখের তারায় মেশে নীরব শাসন,
পাঁজরের গহীনে ডানা ঝাপটায় স্বপ্ন বলাকার ঝাঁক,
স্বর্ণালী আবীরে প্রথম প্রেমের লাজুক শুভ্র বসন।

চাওয়াদের পিছুটানে, তৃষ্ণার গানে..
বাসন্তীর ছোঁয়া মাধবী রঙের ঐ ভুলে যাওয়া চোখ,
বারবার ডেকে আনে, জোছনার বানে..
ভেসে যাক স্মৃতিদের জড়তা, রাত্রিও এলোমেলো হোক;
এলোমেলো উত্তালে জাগুক হেরে জেতা ব্যথা,
ফিরে আসুক অট্টহাসি, অনুভবের ঢেউ,
হৃদয়ের ক্ষতে রঞ্জিত প্রাচীন না রাখা কথা..
রঞ্জিত হোক চোখের মাধবীর অধিকারে ছিলো কেউ।

পুত্রকে

পুত্রকে

হতে পারে হারিয়েছো ভরসার হাত,
মনে করো নুয়ে গেছে পৃথিবীর সততার কাঁধ,
অথবা, ভাঙনে ভক্তির বাঁধ..
এমনকি স্বজনেরা বুনছে প্রতারণার ফাঁদ,
চারিদিকে..
সব হয়ে গেছে ফিকে,
তখনই সময়, খুঁজে নেবে স্মৃতির আধার,
পিতৃত্বের অধিকারে বলা আলোকের জন্ম আঁধার,
তখনই মুহূর্ত মাটিতে নোঙর বাঁধার,
এবং শুকিয়েছে নোনা জল, সময় কাঁদার।
যদি সামাজিক কোলাহল হয়ে যায় বন্ধ,
কৃত্রিম প্রখরে দৃষ্টিরা অন্ধ,
চেতনার মৃত্যু, মরে যায় ভাবনার নন্দ..
এমনকি স্বয়ং তুমি তোমার কাছে মন্দ,
প্রতিদিন..
সূর্যও ধীরে হয়ে যাচ্ছে ক্ষীণ,
তখনই সময় ইথারে খোঁজার..”ঠেকে শেখা কথা”,
বিস্মৃতির সীমান্তে প্রোথিত রয়েছে যথা..
ঝাপসা হওয়া বাতেনি অশ্রুতে বাবাদের ব্যথা,
এবং, মরচে ধরা জীয়ন কাঠিরা অপেক্ষায় আছে তথা।

স্বপ্ন এবং পরাজয়

স্বপ্ন এবং পরাজয়

বারবার হেরে যায় মন,
মনের খেলায়..
বেঁচে থাকার হেলায়..
জগতের সাজানো মিথ্যে মেলায়..
বারবার হেরে যায় মন।
সঙ সাজা বাস্তব আয়না,
মরে পচে গলে যাওয়া কায়াদের কান্না,
মুছে গেছে ধূসরে সবুজের বায়না,
কারণ, বারবার হেরে গেছে মন,
বারবার হেরে গেছে চাওয়াদের ক্ষন।
শুকিয়েছে ব্যথাদের জল,
মমতার সাগর, প্রেমের অতল..
কেবল অনুশোচনার ছায়া হাসে খলখল,
কারণ এখনও বারবার হেরে যায় মন..
শেকলের ক্রন্দনে..
রাত্রির বন্ধনে..
আর সৃষ্টির উপহার নন্দনে..
বারবার হেরে যায় মন।
জিতে যায় কৌতুক,
দেয়া অবহেলার যৌতুক,
মঞ্চের নাটকেরা খামোখাই অহেতুক,
কারণ, বারবার হেরে যায় মন..
বারবার হেরে গেছে মন..
বারবার, প্রতিদিন, বারবার..
হেরে গেছে……যায়।

ডাক

ডাক

তোমার বিহনে প্রেমের কাহনে..
বিরহের গান গাওয়া,
বিষণ্ণ সুরে বিস্মৃতি দূরে..
জোছনা গুনতে চাওয়া,
রাত্রি বাহনে স্বপ্ন গাহনে..
একাকী প্রহর গোনা,
অনাগত ভোরে জীবনের মোড়ে..
কুয়াশার ডাক শোনা,
দিবস তখন মেঘলা যখন..
স্পর্শ আঁচলে যাওয়া,
মায়াবী বর্ণে মমতা অর্নে..
হৃদয়ের নাও বাওয়া।
ভীষণ তিখন সময় এখন..
কান্নার জল লোনা,
কালের পর্না ধূসর তূর্ণা..
টেকার নকশা বোনা,
তবুও দূরের অচিনপুরের..
মৃত্তিকা মুখখানি,
সবুজ ঘরের ঝাপসা স্বরের..
ভুলে যাওয়া হাতছানি।